• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর অ্যানথ্রাক্সের লক্ষণ, আক্রান্ত ৩৫

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৬ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

​গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
​গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের পর অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্তের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। গত দুই দিনে নতুন করে আরও তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। রোগটির বিস্তার ঠেকাতে গবাদিপশুকে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
​ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম একটি অসুস্থ গরু জবাই করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন সেই গরুর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেন এবং বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে মাংস ভাগ করে দেওয়া হয়।
​এর কয়েক দিন পর মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া কয়েকজনের শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা ও ত্বকে ঘা বা ফোস্কার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। পরে সন্দেহজনক অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন।
​গত দুই দিনে নতুন করে চিকিৎসা নেওয়া তিনজন হলেন সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছহাটি গ্রামের মোছা. শাহিনুর বেগম, মো. আনছার আলী ও মো. জবেদ আলী। তাদের নিয়ে মোট আক্রান্ত ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫ জনে।
​
​এদিকে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর মধ্যে যাতে রোগটি ছড়াতে না পারে, সে জন্য আক্রান্ত এলাকার চারপাশে ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ পদ্ধতিতে ব্যাপক টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ২০ হাজার টিকার মধ্যে ১৯ হাজার গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত আরও ১০ হাজার টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
​স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও স্থানীয় মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম থেকে অসুস্থ বা সন্দেহজনক পশু পরীক্ষা ছাড়া জবাই না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।
​
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, মাংসের নমুনায় অ্যানথ্রাক্সের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আইসিডিডিআর, বি-তে পাঠানো নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা আগের মতোই চলবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আশা করা হচ্ছে, আক্রান্তরা চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠবেন।
​উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অসুস্থ পশু জবাই না করা, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং শরীরে যেকোনো ধরনের ফোস্কা বা ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অ্যানথ্রাক্সের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category