জীবনে নানা ধরনের বিপদ, দুশ্চিন্তা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এসব বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি, শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করে। একই সঙ্গে শত্রুর ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকা এবং তাকদিরের কোনো অকল্যাণকর বিষয় থেকে আল্লাহর হেফাজত পাওয়াও প্রত্যেক মুমিনের প্রত্যাশা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শিখিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত এই দোয়ায় কঠিন বিপদ, দুর্ভাগ্য, তাকদিরের অকল্যাণকর পরিণতি এবং শত্রুর বিদ্বেষ বা আনন্দ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
দোয়াটি হলো-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَدَرَكِ الشَّقَاءِ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ، وَشَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন জাহদিল বালাই, ওয়া দারকিশ শাকাই, ওয়া সুইল কাদাই, ওয়া শামাতাতিল আ’দা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কঠিন বালা-মুসিবত, দুর্ভাগ্যে পতিত হওয়া, তাকদিরের মন্দ পরিণতি এবং শত্রুদের আনন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
দোয়াটি নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে পারেন এবং বিপদ-আপদ থেকে তার আশ্রয় চাইতে পারেন। ফজরের নামাজের পর অন্যান্য মাসনুন আমল আদায়ের পাশাপাশি এটি পড়া যেতে পারে।
তবে কোনো দোয়া বা আমল কতবার পড়তে হবে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট দলিল থাকলে সেই নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত। শুধু কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে অলৌকিক ‘কোড’ বা নিশ্চিতভাবে তাকদির পরিবর্তনের সূত্র হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দোয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো আল্লাহর ওপর ভরসা, আন্তরিকতা এবং তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বিপদ-আপদ, দুর্ভোগ, অকল্যাণ এবং শত্রুর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখুন। আমাদের জীবনে শান্তি ও কল্যাণ দান করুন। আমিন।