নিজস্ব প্রতিনিধি (জয়পুরহাট):
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিএনপির এক নেতা ও তাঁর স্ত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের ছুরিকাহত করার অভিযোগ উঠেছে জিয়া পরিষদের নেতা আতিয়ার রহমান সুমনের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় আতিয়ার রহমানও আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত আটটার পর রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের চক রোয়াইড় গ্রামের মোড় এলাকায় আজাদুলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর হোসেন আলম, তাঁর স্ত্রী মাহবুবা খাতুন এবং আতিয়ার রহমান। তাঁদের সবার বাড়ি রোয়াইড় গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বক্তব্য :
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোয়াইড় গ্রামের একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি খনন করে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছিল। বালুবাহী ট্র্যাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। বিষয়টি তাঁরা পুলিশকে জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত সোমবার রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বালুবাহী ট্র্যাক্টর আটক করে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও বালুবাহী ট্র্যাক্টর চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়টি নিয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আলমগীর হোসেনও কথা বলেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা গত বুধবার উপজেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। শনিবার বিকেলে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম ছোয়াতের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে আলমগীর হোসেন ওই বৈঠকের কথা গ্রামের বাসিন্দাদের জানাতে বের হন। চক রোয়াইড় গ্রামের মোড় এলাকায় আজাদুলের দোকানের সামনে আতিয়ার রহমানের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও তাঁর স্ত্রী আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে রাত নয়টার দিকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিছু সময় পর আতিয়ার রহমানও সেখানে চিকিৎসা নিতে যান।
৩ অক্টোবর ( শনিবার) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আলমগীর হোসেন ও আতিয়ার রহমান পাশাপাশি দুটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। আলমগীরের মাথায় ব্যান্ডেজ ছিল। আতিয়ার রহমানের বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং গজ দিয়ে হাত ঝুলিয়ে রাখা ছিল।
আলমগীর হোসেন দাবি করেন, তিনি গরু কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তাঁর কাছে আতিয়ার রহমান এক লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। টাকা না দেওয়ায় আতিয়ার তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে আলমগীর বলেন, প্রায় এক মাস ধরে গ্রামের মারুফের জমি থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে ট্র্যাক্টর চলাচলের কারণে গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করছিলেন।
আলমগীরের দাবি, শুক্রবার রাতে শনিবারের বৈঠকের কথা জানাতে বের হলে আতিয়ার রহমান তাঁকে ছুরিকাহত করেন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী মাহবুবা খাতুনও আহত হন। তাঁর স্ত্রীর চোখের পাশেও আঘাত লাগে বলে দাবি করেন তিনি।
আলমগীরের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতিয়ার রহমান। তাঁর দাবি, আলমগীর হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত এপ্রিল মাসে তাঁকে মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল। এ কারণে আলমগীর তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে দাবি করেন আতিয়ার।
আতিয়ার রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে গ্রামের বাড়িতে গেলে আলমগীর তাঁকে মারধর করেন। তাঁর বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম ছোয়াত বলেন, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল। এর আগেই শুক্রবার রাতে তাঁদের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।