• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
এনসিপির পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা করে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় গাফিলতি হলে কঠোর শাস্তি আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস ১০০ গুণী শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও সালাহউদ্দিন আহমেদের আশু আরোগ্য কামনায় ডেমরা থানা বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ, ২০৫০ সালে বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল নগরীর শঙ্কা ৪ হাজার ৫৮৬ ইউনিয়নে নতুন উপকারভোগী বাছাই ডিসেম্বরে দেশজুড়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঢাকায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ, ২০৫০ সালে বিশ্বের শীর্ষ জনবহুল নগরীর শঙ্কা

একুশে সংবাদ ডেস্ক / ১২ Time View
Update : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

সবার জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ সোমবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং টেকসই বসবাসের পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরতেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৮৫ সালে অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর ১৯৮৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি পালিত হয়। ‘বাসস্থান আমার অধিকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রথমবারের মতো কেনিয়ার নাইরোবিতে দিবসটি পালিত হয়েছিল। বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসতি দিবস উদযাপন ও বসতি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার উদ্বোধন করবেন।

মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য উৎপাদন, সামাজিক জীবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন থেকেই বসতির ধারণার বিকাশ। একটি নির্দিষ্ট স্থানে মানুষ একত্রিত হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করাকে মানব বসতি বলা হয়। ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও মানুষের জীবিকা নির্বাহের ধরন অনুযায়ী মানব বসতি সাধারণত গ্রামীণ ও শহুরে—এই দুই ধরনের।

কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর বসতিকে গ্রামীণ বসতি এবং ভূমিনির্ভর কৃষিকাজের বাইরে অন্যান্য অকৃষি কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত মানুষের বসতিকে শহুরে বসতি বলা হয়। বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণের ফলে আবাসনের চাহিদা বাড়লেও সবার জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নগর এলাকায় সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ সীমিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ও কৃষিজমি ভরাট, যানজট, নাগরিক সেবার অসম বণ্টন এবং ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থান। ফলে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

ঢাকার জনসংখ্যায় নতুন রেকর্ড

ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে। ২০০০ সালে প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে ঢাকা ছিল বিশ্বের নবম জনবহুল নগর। ২৫ বছরের ব্যবধানে জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ নগরীতে উঠে এসেছে। এ সময়ে ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরীতে পরিণত হতে পারে। ওই সময়ে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

নগরবিদদের মতে, ঢাকার ওপর আবাসনের চাপ কমাতে শুধু নতুন আবাসিক এলাকা বা ভবন নির্মাণ বাড়ালেই হবে না। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেশের অন্যান্য অঞ্চল ও শহরে ছড়িয়ে দিতে হবে। মানুষ যাতে জীবিকা ও মৌলিক নাগরিক সুবিধার জন্য বাধ্য হয়ে ঢাকামুখী না হয়, সে ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাসসকে বলেন, সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন কমিয়ে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। চাকরি, শিল্প ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেশের বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে শহরের জনসংখ্যা ও প্রবৃদ্ধিও পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি বলেন, সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের সক্ষমতা অনুযায়ী ছোট ও সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট তৈরি করা প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি সব আবাসন প্রকল্পে তাদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি ও আবাসনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

ড. আদিল মুহাম্মদ খান আরও বলেন, আবাসন করতে গিয়ে কৃষিজমি, জলাশয় ও জলাভূমি ধ্বংস করা যাবে না। কোথায় আবাসন হবে এবং কোথায় হবে না—এ বিষয়ে কঠোর নগর পরিকল্পনা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা দরকার। শুধু নতুন নতুন আবাসিক এলাকা তৈরি না করে বিদ্যমান শহরগুলোর পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে হবে।

আবাসনের সঙ্গে নাগরিক সুবিধার সমন্বয় জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আবাসন সংকট সমাধানে শুধু ঘর বা ভবন নির্মাণকে আবাসন পরিকল্পনা হিসেবে দেখলে চলবে না। নিরাপদ বাসস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলার মাঠ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধাকেও আবাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসনের সুযোগ বাড়াতে সরকারি নীতিতে তাদের প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বেসরকারি আবাসন প্রকল্পেও নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক আবাসন ইউনিট রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দ্রুত নগরায়ণের ফলে বাংলাদেশের শহরগুলোতে বাড়ছে জনসংখ্যা ও আবাসনের চাপ। একই সঙ্গে কৃষিজমি, জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণই এখন দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্ব বসতি দিবস সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানুষের আবাসন অধিকার, টেকসই নগর উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির সুযোগ করে দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category