দেশের ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়নে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও অপুষ্টির হার বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটি এসব উপকারভোগী নির্বাচন করবে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ১ অক্টোবরের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ জুন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির পিএসসি কমিটির সভায় ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক নতুন উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ৫০৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়নে নতুন উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও অপুষ্টির হার বিবেচনায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৭৭টি উপজেলার ১ হাজার ২১১টি ইউনিয়নে প্রতি মাসে ৯ জন করে উপকারভোগী নির্বাচনের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ৩২৬টি উপজেলার ৩ হাজার ৩৭৫টি ইউনিয়নে প্রতি মাসে ৬ জন করে উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় দারিদ্র্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচনে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া ‘ক’ শ্রেণির ২০৭টি পৌরসভার ১ হাজার ৯৮৭টি ওয়ার্ডে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় প্রতি মাসে তিনজন করে নতুন উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির ১২৫টি পৌরসভার ১ হাজার ১২৫টি ওয়ার্ডে প্রতি মাসে দুইজন করে উপকারভোগী নির্বাচনের বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের ৫০১টি ওয়ার্ডের জন্যও পৃথক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সিটি করপোরেশনের ১৭০টি ওয়ার্ডে প্রতি মাসে চারজন করে এবং অপর ১০টি সিটি করপোরেশনের ৩০১টি ওয়ার্ডে প্রতি মাসে দুইজন করে নতুন উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় শিল্প খাতের ৫০০টি কারখানাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও এফএলএক্সএ-এর আওতাভুক্ত এসব কারখানায় প্রতি মাসে একজন করে নতুন উপকারভোগী নির্বাচনের বরাদ্দ রয়েছে। এ হিসাবে কারখানাগুলোতে বছরে মোট ৬ হাজার উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো ইউনিয়ন বা পৌরসভা তালিকা থেকে বাদ পড়লে কিংবা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় কোনো এলাকায় বরাদ্দ কম বা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটি নিজ উপজেলার নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যে তা পুনর্বিন্যাস করতে পারবে।
তবে কোনো উপজেলা তার জন্য নির্ধারিত মোট বরাদ্দের অতিরিক্ত উপকারভোগী নির্বাচন করতে পারবে না। ফলে স্থানীয় বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনায় বরাদ্দের অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাসের সুযোগ থাকলেও নির্ধারিত মোট সীমা অতিক্রম করা যাবে না।