রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক সেমিনারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, কৃষিখাতের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সামনে এগোতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কৃষি প্রকৌশল বিভাগ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও সেচ : সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবনের উন্নয়নে কৃষির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ বিভাগের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার খাতে পৃথক প্রকৌশল অধিদপ্তর সফলভাবে কাজ করছে। একইভাবে কৃষিখাতেও একটি বিশেষায়িত কৃষি প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যা কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ের সেবা আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. মো. সাব্বির মোস্তফা খান, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক ইঞ্জি. শাহরিন ইসলাম তুহিন, আইইবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট খান মঞ্জুর মোর্শেদ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইঞ্জি. মোহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী। সভাপতিত্ব করেন আইইবি’র কৃষি প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মাওলা।
শিক্ষক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি নির্ভর উৎপাদন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ কৃষি নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সেমিনারে উত্থাপিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি খাত হবে আরও আধুনিক, দক্ষ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।