• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
Headline
আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘পোশাকশিল্পে সাময়িক অস্থিরতায় বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে না’: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী রাজধানীতে এক রাতেই জোড়া বাসে আগুন: মিরপুরে বিহঙ্গ ও মহাখালীতে সোহাগ পরিবহনে অগ্নিসংযোগ ২১ বছর পর রাজপথের শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ লাখো নেতাকর্মীর ঢল ফ্রাঙ্কফুর্টে ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহপুত্রের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা ‘জিয়াউর রহমান দায়িত্ব না নিলে স্বাধীনতা অন্যের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল’: বেলাবোতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দিন: রুহুল কবির রিজভী ‘কোনো ডিসেম্বরেই দেশে আসার সুযোগ নেই, এলেও ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত’: নোবিপ্রবিতে নাহিদ ইসলাম নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন জিয়ার ছবি ছাড়া ব্যানার, পরে ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন: জয়পুরহাটে তুলকালাম

বাজেট ২০২৬-২৭, তরুণ’রা কি বাজেট সচেতন ?

একুশে সংবাদ ডেস্ক / ৬১ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

 

বাজেট আলোচনা শুরুর আগেই তরুণদেরকে জানতে হবে বাজেট কি ? সোজা কথায় বাজেট হলো সরকারের আগামী ১ বছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যায়ের একটি আর্থিক পরিকল্পণা। বাজেট কথাটি এসেছে ফরাসি শব্দ বুজেট থেকে এর অর্থ চামড়ার তৈরী টাকার থলে। ১৭৩৩ সালে ব্রিটিশ রাজা দ্বিতীয় জর্জের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন রবার্ট ওয়ালপুল উনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাজেট পেশ করেন। আমাদের উপমহাদেশেও বাজেট এসেছে ব্রিটিশদের হাত ধরেই, ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজত্বের অবসানের পর ইন্ডিয়া কাউন্সিলের ফিন্যান্স মেম্বার স্কটিশ ব্যবসায়ী জেমস উইলসন ১৮৬০ সালের এপ্রিল মাসে উপমহাদেশের প্রথম বাজেট পেশ করেছিলেন।ছোট করে এই জেমস উইলসনের আরেকটি পরিচয় দিয়ে রাখি, তিনি ছিলেন চার্টার্ড ব্যাংক ও বিখ্যাত সাময়িকী দ্যা ইকোনমিস্ট এর প্রতিষ্ঠাতা, আজকের যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এটা তার-ই প্রতিষ্ঠিত চার্টার্ড ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরবর্তী একীভূত রুপ।দেশভাগের পর পাকিস্তান আমলে প্রথম বাজেট দিয়েছিলেন মালিক গুলাম মোহাম্মদ ১৯৪৮-৪৯ সালে মুসলিম লীগ সরকারের সময় এবং তখন থেকে অর্থবছর গণনা এপ্রিল-মার্চ থেকে জুন-জুলাই করা হয়, যদিও ভারত সরকার এখনো এপ্রিল-মার্চ ধরে অর্থবছর বিবেচনা করে।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট
১৯৭৭ সাল থেকে এযাবৎকাল পর্যন্ত বিএনপি সরকার মোট ১৬ টি বাজেট পেশ করেছে যারমধ্যে ১২ টি বাজেট একাই পেশ করেছেন বিএনপির প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান।আজ থেকে ২০ বছর আগে সর্বশেষ ২০০৬-০৭ অর্থবছরের বিএনপি সরকারের শেষ বাজেট তিনিই উপস্থাপন করেছিলেন। বাংলাদেশের সরকারের প্রথম অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন ১৯৭২ সালের ৩০ জুন। তিনি একই সঙ্গে ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন,
এযাবৎকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৫৫ টি বাজেট পেশ করা হয়েছে, এবারের ৫৫ তম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাজেটের আকার ৯.৩৮ লক্ষ কোটি টাকা (প্রায় ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং প্রাক্কলিত ঘাটতি ধরা হয়েছে ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩.৬%।
বাজেটে তরুণদের জন্য যে সুখবর থাকছে
বর্তমান সরকার যেহেতু নির্বাচনের আগে থেকেই বলে আসছে যে বিএনপি সরকার হবে জেনজিদের সরকার, তরুণদের সরকার তাই সরকারের এই বাজেটে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক যে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এরমধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ্ শিক্ষা বিভাগ যার পরিমাণ ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। এবং সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে, যার পরিমাণ ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা খাতে এবার বাজেটের একটা বড় অংশ গিয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্নের বাইরে এবারের বাজেটে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্টার্টআপ অর্থায়ন, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও করছাড়ের সুবিধা রাখা হয়েছে এবং দক্ষতা উন্নয়নের উপর সর্বোচ্চ জোর দেয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে রেকর্ড ২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তরুণদের স্টার্টআপ বা আইটি খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে এবং সবচেয়ে সুখবর হলো স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ১৫% করছাড় সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে পাশাপাশি টার্নওভার কর শুন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, টার্নওভার কর শুন্য শতাংশ মানে হলো, একটি প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রির উপর সরকারকে কোনো ট্যাক্স বা কর দিতে হবে না। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শুধু ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি আছে এই সুবিধা এখন থেকে সব ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, এছাড়া ফ্রিল্যান্সারের সেবার উপর আরোপ করা ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধাও বাজেটে রাখা হয়েছে। আইটি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতি বছর সরাসরি ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে , এছাড়াও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও ৮ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে
তরুণদের এসকল সুবিধা দেয়ার উদ্দেশ্য হলো সরকার চায় তরুণেরা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির নেতৃত্ব দেবে এবং একইসাথে দেশব্যাপী ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এর মাধ্যমে পারিবারিক সচ্ছলতা আসবে।

মোঃ শাহেদুল ইসলাম
সাবেক শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category