• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
Headline
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে শপথ নিলেন চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি সারোয়ার আলমগীর নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতেও সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে চসিক: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ফিরছেন অভিনয়ে সায়ন্তিকা তানজিন তিশা অপেক্ষায়  নতুন করে উত্তেজনা নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হচ্ছে খামেনিকে আলী খামেনির দাফনের আগে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান  তবুও শেষ আটে ইউরোপেরই আধিপত্য :  বিশ্বকাপ বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন নিয়ামুরি-শুম্বা বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হলেও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রেখেছে: এডিবি পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তিকে সচেতন থাকতে হবে: রাজনৈতিক উপদেষ্টা

নতুন করে উত্তেজনা নিজ শহর মাশহাদে দাফন করা হচ্ছে খামেনিকে

আন্তজাতিক ডেস্ক / ৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিজ শহর মাশহাদে দেশটির নেতা আলী খামেনিকে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির মানুষ।

এরই মধ্যে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফনের আগে কয়েক দিনব্যাপী শেষকৃত্যানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে সেই অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ অংশ নেন।

মাশহাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তবে খামেনির এই শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ‘আরও ভয়াবহ’ হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রথম দিনেই খামেনি নিহত হন। ওই হামলার মধ্য দিয়েই যুদ্ধের সূচনা হয়।

বুধবার প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় দীর্ঘ শোকযাত্রা শেষে তার মরদেহ চূড়ান্ত দাফনের জন্য মাশহাদে নেওয়া হয়।

এদিকে পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির দিকে।
তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।

ধারণা করা হচ্ছে, যেই হামলায় তার বাবা নিহত হন, সেই একই হামলায় তিনিও আহত হন।

মাশহাদের গভর্নর হাসান হোসেইনির উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, খামেনির জানাজায় প্রায় দেড় কোটি মানুষের অংশ নেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

জানাজা বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরাকে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে দেরি হওয়ায় পরে আয়োজকদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, অনুষ্ঠানটি দুপুর ২টায় শুরু হবে।

সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানের সবচেয়ে পবিত্র প্রার্থনাস্থল ইমাম রেজার মাজারে খামেনিকে দাফন করা হবে।

১২ শিয়া ইমামের মধ্যে শুধু ইমাম রেজাই ইরানে সমাহিত আছেন।

খামেনির শেষ বিদায়ের বিভিন্ন আয়োজন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তিকে প্রতিফলিত করে এমন বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তার চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ মোহাম্মাদি-গোলপায়েগানি এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, খামেনি নিজেই মাশহাদে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইমাম রেজার মাজারে ইরানের একাধিক সাবেক শাহ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দাফন করা হয়েছে।

উপচে পড়া জনসমাগম-
খামেনির মরদেহ তেহরানে তিন দিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শায়িত রাখার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের ছয় মাস পর এই শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতে চায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া ৮৬ বছর বয়সী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিহত হন।

টানা পাঁচ সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সাময়িকভাবে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা দুর্বল করতে হামলা চালানো হয়েছে বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা দেওয়ার পর, যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

হরমুজ প্রণালীই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়।

হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির উপকূলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।

এর আগে তেহরান দাবি করে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

তেহরানে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার খামেনির মরদেহ ধর্মীয় শহর কোমে নেওয়া হয়। বুধবার সেখান থেকে নেওয়া হয় প্রতিবেশী ইরাকে। এরপর বৃহস্পতিবার মাশহাদে তাকে দাফন করা হচ্ছে।

খামেনির সঙ্গে একই কবরে তার শিশু নাতনি, জামাতা, মেয়ে ও মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেলকেও দাফন করা হবে। তারা সবাই ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত হন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category