ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পদ্ধতিগত জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন (ইউএনকপস-২০২৬)’-এর প্রথম প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন। পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্রের বিস্তারের কারণে প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তুলতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত, ফরেনসিক, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিং ব্যবস্থার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠিত হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের সফল অভিজ্ঞতা, সেরা অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা পারস্পরিকভাবে বিনিময়ের সুযোগ পাবে, যা বৈশ্বিক পুলিশিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করবে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি জোরদারের লক্ষ্যে তিনি বার্ষিক পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে শান্তি, মানবতা ও উদ্ভাবননির্ভর একটি অভিযোজনক্ষম জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পুলিশ প্রধান, মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা, অপারেশনাল সাপোর্ট ও রাজনৈতিক এবং শান্তি বিনির্মাণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।