নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা সম্বলিত মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্র নিরোধক দণ্ড ও সতর্কীকরণ অ্যালার্ম স্থাপন করা হবে, যাতে কৃষক ও জেলেরা ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন।
বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০-এর সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে উত্থাপিত মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বজ্রপাত এখন একটি ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং প্রাণহানি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় ‘বজ্রপাতের ফলে প্রাণহানি রোধে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ’, ‘কৃষক ছাউনি’ এবং ‘বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আওতায় চলনবিল অঞ্চলের বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জসহ হাওর এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, হাওর এলাকায় ধান কাটার সময় কৃষক এবং বর্ষাকালে মাছ ধরতে গিয়ে অনেক জেলে বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এ বাস্তবতায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে বজ্রপাতের জন্যও বিশেষ মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বজ্রপাত বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতে গবাদিপশুর মৃত্যু হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চলনবিল, হাওরসহ দেশের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।