নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, কৃষিকে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষক নিবন্ধন, জাতীয় কৃষক ডাটাবেজ, ডিজিটাল কৃষিসেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, ই-এক্সটেনশন এবং অনলাইন কৃষিসেবা প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এর আওতায় প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রম সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ড্রোন প্রযুক্তি, জিআইএস, স্যাটেলাইট তথ্য এবং বিগ ডাটা ব্যবহারের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা আরও বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি প্রিসিশন এগ্রিকালচার চালুর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার, বায়োফার্টিলাইজার এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তরেও সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে দেশের কৃষি খাত আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক, রপ্তানিমুখী ও টেকসই হয়ে উঠবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।