ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের এক অনন্য জনপদ। হাওর-বাঁওড়, নদী, সবুজ প্রকৃতি আর হাজার বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই জেলা আজও বহন করে চলেছে গৌরবময় অতীতের স্মৃতি।
১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মহকুমা থেকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কিশোরগঞ্জ। বর্তমানে জেলার ১৩টি উপজেলা—কিশোরগঞ্জ সদর, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর, ভৈরব, নিকলী, মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম—নিয়ে বিস্তৃত এর জনপদ।
কিশোরগঞ্জের মাটি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যেই সমৃদ্ধ নয়; এই জেলা জন্ম দিয়েছে বহু গুণী ও কৃতী মানুষকে। উপমহাদেশের প্রথম মহিলা কবি হিসেবে পরিচিত চন্দ্রাবতী, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং মো. আবদুল হামিদ—তাঁদের স্মৃতি ও অবদান কিশোরগঞ্জের ইতিহাসকে করেছে আরও গৌরবময়।
কিশোরগঞ্জের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের জামাতে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ।
অন্যদিকে হাওরের বুক চিরে নির্মিত নিকলী ও মিঠামইন অলওয়েদার সড়ক প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি আর শীতের নীল আকাশ—দুই ঋতুতেই হাওরের সৌন্দর্য মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের।
ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য রয়েছে এগারসিন্দুর ও শাহ মাহমুদ মসজিদসহ নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা। এসব নিদর্শন কিশোরগঞ্জের সমৃদ্ধ অতীতের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে যুগের পর যুগ।
হাওরের টাটকা মাছ, ঐতিহ্যবাহী পনির এবং ভাটি অঞ্চলের নানা খাবার কিশোরগঞ্জের নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতিকে করেছে স্বতন্ত্র। পাশাপাশি লোকসংগীত ও বাউল সংস্কৃতির গভীর প্রভাব এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে।
সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি, হাওরের বিশালতা, ইতিহাসের গৌরব আর মানুষের সরলতা—সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ সত্যিই রূপসী বাংলার এক অনন্য জনপদ।