এবারের আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ, জীবন রক্ষায় প্রয়োজন নার্সদের ক্ষমতায়ন।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর সার্বিক সেবা, মানবিক সহায়তা এবং মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দক্ষ নার্সিং সেবার বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যখাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পেশাদার ও মানবিক গুণসম্পন্ন নার্স তৈরি করা সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তারা।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ আলপনা আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক বাহার উদ্দিন ভূঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ সাঈদ হাসান, উপাধ্যক্ষ মোঃ খালেকুল ইসলাম এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ এস. এম. ইউসুফ ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক বাহার উদ্দিন ভূঞা আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আধুনিক নার্সিং সেবার পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মানবিক আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে নার্সদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি বলেন, একটি উন্নত হাসপাতাল ব্যবস্থার প্রাণশক্তি হলো দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নার্সিং সেবা। রোগীর নিরাপত্তা, মানসম্মত চিকিৎসা ও মানবিক সেবার ক্ষেত্রে নার্সদের অবদান অপরিসীম।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলপনা আক্তার বলেন, নার্সরা শুধু স্বাস্থ্যসেবার কর্মী নন, তারা মানবতার সেবায় নিবেদিত একেকজন সাহসী অগ্রসৈনিক। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রোগীর পাশে থেকে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার যে অনন্য দৃষ্টান্ত নার্সরা স্থাপন করেন, সেটিই তাদের পেশার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা চর্চার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় কলেজটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব মোঃ জহুরুল ইসলামকে। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে নার্সদের গুরুত্ব তিনি বহু আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। একটি আধুনিক হাসপাতালের মূলভিত্তি যে দক্ষ ও মানবিক নার্সিং সেবা— সেই দূরদর্শী চিন্তা থেকেই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার আগেই নার্সিং ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। সময়ের ব্যবধানে সেই প্রতিষ্ঠান আজ পূর্ণাঙ্গ নার্সিং কলেজে পরিণত হয়েছে, যা তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও মানবিক দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে যখন স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, তখন জহুরুল ইসলাম নার্সিং কলেজ দেশের জন্য পেশাদার ও মানবিক নার্স তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হিসেবে গড়ে তুলছেন।
আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেক কাটার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপন করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।