• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন
Headline
নদীর প্রবাহ পথে ক্ষীণ জলধারা দেখা গেলেও নদীর বেশির ভাগ অংশই ধু-ধু বালু চর-দায় কার! শিশুদের অধিকার ও প্রত্যাশা : জাতিসংঘ ঘোষিত পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী অভিযানে অস্ত্রসহ ইউপিডিএফের তিন সন্ত্রাসী আটক হটস্পট ৩০ উপজেলায় কমেছে দ্রুত হামের সংক্রমণ ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট কৃষিবান্ধব ও উৎপাদনমুখী হওয়া প্রয়োজন–লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল আলোচনায় যেসব ইস্যু : বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন শেহবাজ শরিফ, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সরব হলে দেশ ও জাতির উপকার হতো’ : ‘ধর্ষণ ও শিশুমৃত্যু পর্দার নায়কের হাতে সম্মাননা পেলেন বাস্তবের নায়করা : চড়াই-উতরাই পাকিস্তানের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাংলাদেশ

নদীর প্রবাহ পথে ক্ষীণ জলধারা দেখা গেলেও নদীর বেশির ভাগ অংশই ধু-ধু বালু চর-দায় কার!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন ডেস্ক. / ১ Time View
Update : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

 

বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি। বৈশাখে ধু-ধু বালু চর। জেলার প্রাণপ্রবাহ পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও পুনর্ভবা নদীর এমনই অবস্থা এখন। এই বৈশাখে নদীগুলোকে আর নদী বলে চেনা যায় না। নদীর প্রবাহ পথে ক্ষীণ জলধারা দেখা গেলেও নদীর বেশির ভাগ অংশই ধু-ধু বালু চর।

আজ ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর নেতৃত্বে ভারতের ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঐতিহাসিক লংমার্চ। সেসময় মওলানা ভাসানী আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের গঙ্গায় ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের নদীতে চর জেগে উঠবে এবং পানিপ্রবাহ কমে যাবে। পাঁচ দশক পর সেই আশঙ্কার বাস্তব প্রতিফলন স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারাক্কা বাঁধই নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও পুনর্ভবা নদী এখন মৃতপ্রায়। বিস্তীর্ণ এলাকায় জেগে উঠেছে চর। যার ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র ও নদীকেন্দ্রিক জনজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ এখন অনেকটাই ভারতের পানি ছাড়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। আবার বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে দেখা দেয় বন্যা ও তীব্র নদী ভাঙন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের চর এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি কবিরুল হক বাসসকে বলেন, আগে পদ্মায় সারা বছর পানি থাকত, এখন শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে নদী পার হওয়া যায়। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় মৎস্যজীবীরা বিপাকে পড়েছেন। তাদের জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বাসিন্দা মৎস্যজীবী জামাল উদ্দিন বলেন, নদী কখনো ভাঙছে, আবার কখনো শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে জমি হারানোর পাশাপাশি পানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদনও।

তিনি বলেন, একসময় পদ্মা থেকে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন নদীতে পানি না থাকায় মাছও কমে গেছে। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বাসসকে বলেন, মওলানা ভাসানী যে কারণে ফারাক্কার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন, সেই সমস্যার এখনও সমাধান হয়নি। তিনি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব বলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে জেলার নদীগুলোর নাব্যতা কমেছে। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা যাচ্ছে না। তবে নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার ও পানি সংরক্ষণে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা