• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
Headline
২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা বাংলাদেশ-কাজাখস্তান সম্পর্ক জোরদারে স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনে একমত দুই প্রধানমন্ত্রী দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে ভারতের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বাংলাদেশ ভালুকায় পরিবেশ, বন প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময় বুধবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে ১৯তম কর্পোরেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। চৌদ্দগ্রামে বাবুচি দারুচ্ছুন্নাৎ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা আবুল কালাম মিয়াজীর স্মরণে দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত ‎দক্ষিণ আইচায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে

মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপে নত হবে না ইরান: মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা

আন্তজাতিক ডেস্ক / ২৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক নৌ অবরোধে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়লেও তেহরান তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অর্থনৈতিক দুর্ভোগ বাড়লেও জাতীয় নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্নে ইরানি জনগণ এখনও সরকারের পাশে রয়েছে।

তেহরানের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক আবাস আসলানি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক নৌ অবরোধ সাধারণ মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য কষ্ট সৃষ্টি করেছে। তবে একই সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুদ্ধঝুঁকির বাস্তবতা ইরানিদের এই কঠিন পরিস্থিতি সহ্য করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছে।

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক দুর্ভোগ অনেকটাই বেড়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে মানুষ এটিকে কোনওভাবে সহনীয় হিসেবে দেখছে।”

আসলানি জানান, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ইরানের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। তারপরও দেশটি এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে।

তার মতে, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ করে তোলা, যাতে জনগণের চাপের মুখে তেহরান আলোচনার টেবিলে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র চায় জনগণ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক, যাতে ইরান আলোচনায় নতি স্বীকার করে বা অবস্থান বদলায়। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটছে না।”

আসলানির ব্যাখ্যায়, যুদ্ধ বা নিরাপত্তা সংকটের সময় সাধারণ মানুষ সাধারণত অর্থনৈতিক ইস্যুর চেয়ে নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও ইরানিরা আপাতত জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “এর অর্থ এই নয় যে, অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে ইরানিদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো টিকে থাকা।”

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং ইরানকে ঘিরে সামরিক চাপের কারণে দেশটির অভ্যন্তরে জাতীয়তাবাদী মনোভাব আরও জোরালো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কেবল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের কৌশলগত অবস্থান বদলানো কঠিন হতে পারে।

তারা মনে করছেন, ইরান আপাতত অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করে হলেও কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থানে দৃঢ় থাকার নীতি অনুসরণ করছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সংকট দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। সূত্র: আল-জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category