• শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

চলতি মৌসুমে জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই লালমনিরহাটের বাজারে রসালো লিচু

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ডেস্ক. / ৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই লালমনিরহাটের বিভিন্ন বাজারে আসতে শুরু করেছে মৌসুমি রসালো ফল লিচু। সীমিত সরবরাহের কারণে বাজারে এখনো লিচুর দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়লে দাম স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় জাতের লিচু ইতোমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে। আকর্ষণীয় রং ও স্বাদের কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শহরের বিডিআর গেট, মিশন মোড়, পৌরবাজার, গোশালা বাজার, চাঁদনী বাজার, হাড়িভাঙ্গা, বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন ও কোর্ট বাজার এলাকায় অস্থায়ী দোকান বসিয়ে লিচু বিক্রি করছেন।

বর্তমানে আকার ও মানভেদে প্রতি ১শ’ লিচু ৩শ’ থেকে ৬শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। তবে বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু বাজারে এলে দাম কমে আসবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই অঞ্চলে চায়না-৩ (হাইব্রিড), বোম্বাই ও মাদ্রাজ জাতের লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এসব জাতের বাণিজ্যিক চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

জেলা সদরের লিচু চাষি মতিয়ার আলী বাসস’কে জানান, এক বিঘা জমিতে তার ২০টি লিচু গাছ রয়েছে। এ বছর গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। তিনি বলেন, ‘একটি ৫ বছর বয়সী গাছ থেকে ১শ’ থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত লিচু পাওয়া যায়, যা বিক্রি করে ভালো লাভ পাওয়া যায়।’

আরেক কৃষক ইসমাইল হোসেন বাসস’কে বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এ বছর লিচুর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বসতবাড়ির আঙিনাতেও এখন অনেকে ছোট আকারে লিচু চাষ শুরু করেছেন।

লিচু ব্যবসায়ী রাতুল হোসেন বাসস’কে জানান, তিনি ও তার ভাই গত ৮বছরের বেশি সময় ধরে লিচুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে বাগানের পরিধি বাড়াচ্ছেন তারা।

ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী বাসস’কে বলেন, এই বছর তিনি ৫০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে চায়না-৩, বোম্বাই ও মাদ্রাজ জাতের লিচুর চাষ করেছেন। প্রতিদিন কয়েকজন শ্রমিক বাগানের পরিচর্যায় কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও বাগানে এসে লিচু কেনা শুরু করেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বাসস’কে জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৪৪ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। পাশাপাশি বসতবাড়ির আঙিনায়ও উচ্চফলনশীল জাতের লিচু চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত মাটি, অনুকূল জলবায়ু ও বাজারে ভালো দামের কারণে লালমনিরহাটে আম ও লিচুর বাণিজ্যিক চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি জেলার কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা