ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei জানিয়েছেন, দেশের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই বিদেশে পাঠানো হবে না। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন—সুপ্রিম লিডারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের ভেতরেই রাখতে হবে। এই অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় তেহরানের কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ সিদ্ধান্ত Donald Trump প্রশাসনের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আলোচনাকে এটি আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছেন—ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং চুক্তি অনুযায়ী ওই ইউরেনিয়াম অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে। তবে ইরানের বর্তমান অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলতে পারে।
এর আগে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-হাদাত দাবি করেছিল, ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম Russia-এর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রস্তুত ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো একটি শান্তি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে বিষয়টি উত্থাপন করেছিল তেহরান।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হলেও তা এখন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এক মাসব্যাপী সামরিক অভিযান চালায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়।
International Atomic Energy Agency (আইএইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে। সাধারণত অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের জন্য ৯০ শতাংশ বা তার বেশি সমৃদ্ধির প্রয়োজন হয়।