• শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

প্রস্তাব পাস : ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে ভোট দিলেন নিজ দলের ৪ সিনেটর

আন্তজাতিক ডেস্ক / ৫৮ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ডেমোক্রেটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন চার রিপাবলিকান সিনেটর। এর ফলে সিনেটে এমন একটি প্রস্তাব এক ধাপ এগিয়েছে, যা ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আওতায় ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে পারে। ৫০-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। এ সময় আরও তিন রিপাবলিকান সিনেটর ভোটদানে অনুপস্থিত ছিলেন।

কেন্টাকির সিনেটর র‌্যান্ড পল, মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্স, আলাস্কার সিনেটর লিসা মারকাওস্কি ও লুইজিয়ানার সিনেটর বিল ক্যাসিডি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেন। তবে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্রেট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেন। এই ক্রস-ভোটকে ট্রাম্পের প্রতি বিরল প্রকাশ্য ভর্ৎসনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ৮১ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে রিপাবলিকান পার্টি ও তাদের ভোটারদের বড় অংশ এ পর্যন্ত ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এ পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্বে তেল পরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ২৯০০ কোটি ডলার বলে পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবারের সিনেট এই ভোটের অর্থ এই নয় যে, ট্রাম্পকে অবিলম্বে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে এটি সেই আইনপ্রণেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়, যারা মনে করেন প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছেন। ডেমোক্রেটরা বিশেষভাবে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর কথা উল্লেখ করেছেন। এই আইনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সময় সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখতে পারবেন না।

ডেমোক্রেট ও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরোধী সমালোচকদের মতে, সেই সময়সীমা ১লা মে শেষ হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ৮ই এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ‘ওয়ার পাওয়ারস’ সময় গণনা স্থগিত হয়েছিল। ফলে ট্রাম্পের হাতে ইরানের বিরুদ্ধে এককভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য আরও কমপক্ষে ৪০ দিন সময় আছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী এখনো হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ অবরোধে মোতায়েন আছে। ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ কার্যকর করতে হলে ডেমোক্রেটদের মূল প্রস্তাবটি ১০০ সদস্যের সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদ- উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস করাতে হবে।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি খুবই কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ২১৭, ডেমোক্রেটদের ২১২। আর সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩, ডেমোক্রেটদের ৪৫। এছাড়া দুই স্বতন্ত্র সিনেটর সাধারণত ডেমোক্রেটদের সমর্থন করেন।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলমান। উভয় পক্ষ নতুন নতুন প্রস্তাব বিনিময় করেছে। ইরান ১৪ দফা একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। এতে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব স্বীকার করার দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পাল্টা প্রস্তাবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুদের বড় অংশ হস্তান্তরের বিষয়টিও। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে তা মোটামুটি কার্যকর রয়েছে। যদিও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘন ও অসৎ আচরণের অভিযোগ করে আসছে।

সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে তিনি পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেছেন। কারণ তারা তাকে আশ্বস্ত করেছে যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা