রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন তার ছোট ছেলে এ কে এম আশিকুর রহমান।
তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবার সম্পর্কে যে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তার অনেকটাই বিভ্রান্তিকর ও অসত্য। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন এবং চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় দেখভালের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০২৪ সাল থেকে নূর জাহান বেগম মেয়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
আশিকুর রহমান জানান, তার বোন ফাতিমা নাসরীন সুলতানা ২০১৭ সালে স্বামীকে হারানোর পর একাই মায়ের দেখাশোনা করতেন। তিনি আরও বলেন, মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল এবং বোনও স্বামী হারানোর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাদের কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।
বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না এবং মা নিজেও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন বোন ফোন করে মায়ের কোনো সাড়া না পাওয়ার কথা জানালে তারা নার্স ও পুলিশকে খবর দেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পুলিশ-এর পল্লবী থানার উপপরিদর্শক শামছুর রহমান দাবি করেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় পাওয়া যায় এবং মরদেহে পচনের চিহ্ন ছিল। তবে এ বিষয়ে আশিকুর রহমান দ্বিমত পোষণ করেছেন।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। নিহতের বড় ছেলে এ কে এম আনিসুর রহমান-কে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বশির জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, অবহেলার কোনো উপাদান ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্বের বিষয়টি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবে।