সিলেট, নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের ওসমানীনগরে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির একটি শোরুমকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ইউএনওকে আপা বলে সম্বোধন করায় জরিমানা করা হয়েছে’—এমন দাবিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা বলেন, জরিমানার সঙ্গে ‘আপা’ সম্বোধনের কোনো সম্পর্ক নেই। বাসি ও নিম্নমানের মিষ্টি বিক্রি, চালানে অসংগতি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে অসহযোগিতার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও জানান, স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৯ মে তিনি সাধারণ ক্রেতার বেশে তাজপুর বাজারের শোরুমে যান। সেখানে মিষ্টির মান ও উৎপাদনের সময় সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে কর্মচারীরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় চালানের তথ্যের সঙ্গে বিক্রির পণ্যের মিল পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু কর্মচারী স্বীকার করেছেন যে পুরোনো মিষ্টির সঙ্গে নতুন মিষ্টি মিশিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযানের সময় একজন কর্মচারী দোকান ত্যাগ করেন এবং পরে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের ভিত্তিতেই জরিমানা করা হয়।
‘আপা’ সম্বোধন প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, অনেকেই আমাকে ব্যক্তিগতভাবে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন, তবে এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কোনো বিষয় নয়।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান, জরিমানার কারণ হিসেবে ‘আপা’ সম্বোধনের দাবি সঠিক নয়। ভিন্নভাবে তথ্য উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্যের মান ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।