• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
Headline
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রতিবাদে রাজপথে হুমা কুরেশি বিজয়ের শেষ সিনেমা দেখতে হাজির তৃষা : ‘জন নায়গন’ এবার মোদিকে হটানোর ডাক প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা : রাহুল গান্ধীর রোমানিয়া টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল  দিল্লির আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সফরের প্রস্তুতি এলপিএল’এ হাসানের জায়গায় রিপন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন রানা কিশোরগঞ্জে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বাজিতপুরে একই মাঠে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

কিশোরগঞ্জে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে

ইকবাল খান, স্টাফ রিপোটার, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ / ২২ Time View
Update : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৬ শিশু, দুই যুবক ও একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। জেলার নিকলী, মিঠামইন, কটিয়াদী, ভৈরব, করিমগঞ্জ, ইটনা, কিশোরগঞ্জ সদর ও বাজিতপুর উপজেলায় পৃথক নয়টি ঘটনায় এসব মৃত্যু ঘটে। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে।

নিহতরা হলেন—নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামের মোহাম্মদ হাকিম (৫), মিঠামইনে শিক্ষা সফরে আসা গাজীপুরের টঙ্গীর মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদীর দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের নাঈম মিয়া (১১), ভৈরব উপজেলার শুভ ইসলাম স্মরণ (১২), কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিন মিলন (৪২), ইটনা উপজেলার ফাইজা (৮), সদর উপজেলার ফয়সাল (২২), বাজিতপুর পৌর শহরের তাহসিন মিয়া (৩) এবং মাওয়া আক্তার।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে নিকলীর নানশ্রী গ্রামে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায় শিশু হাকিম। স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শিক্ষা সফরে মিঠামইনের হাওরে আসা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে ভেসে যায় আরিফ হোসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দুপুরে কটিয়াদীর দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামে সহপাঠীদের সঙ্গে বিলে গোসল করতে গিয়ে নাঈম মিয়া গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার শুভ ইসলাম স্মরণ বৃহস্পতিবার গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়রা নদীতে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে হাওর ভ্রমণে গিয়ে করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা হাওরসংলগ্ন মিঠামইনের হাসানপুর ব্রিজ এলাকায় মেয়ে শেমন্ত্রী আক্তারকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দেন ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিন মিলন। তিনি মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিজে আর জীবিত ফিরে আসতে পারেননি। পরে স্থানীয়দের সহায় নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে ভাইয়ের সঙ্গে গোসল করতে নেমে সে নিখোঁজ হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ তল্লাশির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে ঘটনাস্থলের কাছেই তার মরদেহ ভেসেতায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার সকালে ইটনা উপজেলার পাঁচকাহনীয়া এলাকার নদী থেকে ফাইজা (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে ভাইয়ের সঙ্গে গোসল করতে নেমে সে নিখোঁজ হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ তল্লাশির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে ঘটনাস্থলের কাছেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

একই দিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার নদীর ঘাটে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যান ফয়সাল (২২)। তিনি তাবলিগ জামাতের সঙ্গীদের সঙ্গে ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

শনিবার দুপুরে বাজিতপুর পৌর শহরের মিরারবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের খালে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায় তিন বছর বয়সী তাহসিন মিয়া ও শিশু মাওয়া আক্তার। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

একের পর এক এসব মর্মান্তিক ঘটনায় কিশোরগঞ্জজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল বলছেন, বর্ষা মৌসুমে নদী, খাল, বিল, পুকুর ও হাওরের পানির গভীরতা ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শিশুদের একা জলাশয়ের কাছে যেতে না দেওয়া, সাঁতার শেখানো এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঘটনার সত্যতা পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছেন নিকলী, মিঠামইন, কটিয়াদী, ভৈরব, করিমগঞ্জ, ইটনা ও বাজিতপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category