• রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
Headline
শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস জলবায়ু সচেতনতায় চলচ্চিত্র শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার সংস্কার শেষে দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর সীমান্তে বিএসএফের নতুন পুশ-ইন চেষ্টা, শূন্যরেখায় আটকে ৮৮ জন ঝড়ের সময় ঘরের ভেতরেও নিরাপদ নন! ডিমলায় বজ্রপাতে মৃত্যুসহ আহত ৪ রংপুরে বাউবির এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন উপাচার্য আপা’ সম্বোধনের কারণে জরিমানা—দাবি ভিত্তিহীন: ইউএনও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট জড়িত: মিয়া গোলাম পরওয়ার বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে আর্জেন্টিনার সূচি চূড়ান্ত, মেসির নেতৃত্বে প্রস্তুতি জোরদার

সীমান্তে বিএসএফের নতুন পুশ-ইন চেষ্টা, শূন্যরেখায় আটকে ৮৮ জন

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৮৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে এসব ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখা ও নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় বিএসএফ বাংলাদেশে লোকজন ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

লালমনিরহাটে ৩৩ জন

লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এসব অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়।

বিজিবির তথ্যমতে, আদিতমারী উপজেলার দীঘলটারী ও দুর্গাপুর সীমান্তে ১২ জন, হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া সীমান্তে ১১ জন এবং পাটগ্রামের ঝালাঙ্গী সীমান্তে আরও ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তানভীর আহমেদ বলেন, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পঞ্চগড়ে ১০ জন

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই ১০ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন। এ সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের মুখোমুখি অবস্থান করতে দেখা যায়।

৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট ও অনড়।”

নওগাঁয় ১৭ জন

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। শুক্রবার সকাল আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি জানায়, ভারতের পান্নাছড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা প্রতিহত করে। বর্তমানে তারা দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ২৮ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো ২৮ জন এখনো নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বুধবার গভীর রাতে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠায়। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

ওই ২৮ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টিতে তারা ভিজেছেন এবং পর্যাপ্ত খাবারও পাচ্ছেন না। তাদের মধ্যে একজন বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিএসএফ ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে। তবে এখনো তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “ওই ২৮ জন বর্তমানে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিষয়টি সমাধানে আমরা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।”

সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন সীমান্তে আটকে থাকা ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা