ঢাকা, ৯ জুন:
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সকল ৩১ ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ব্রিফিংয়ে তিনি স্বাস্থ্য খাতসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গত সপ্তাহের মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও চলমান কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের মাত্র আটটি উপজেলায় ১০০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাকি সকল ৩১ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় এসব অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা হবে। গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে প্রকল্পটির কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথাও জানান তিনি। গত ৭ জুন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি সাতটি বিভাগ ও সব জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে সমীক্ষা চলছে। একইসঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া লাইফ লাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্যহার স্থগিত রেখে পূর্বের মূল্য বহাল রাখা হয়েছে।
শিক্ষা খাতের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে ১২ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় দেশের ২২ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে ১ হাজার ১০০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।
এছাড়া দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই এবারের ঈদুল আজহার শতভাগ চাহিদা পূরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।