প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় না বাড়ে। তিনি বলেন, “আমরা একটি জনবান্ধব বাজেট উপহার দিয়েছি। এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই।”
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ ও মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর পূর্বে আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে বাজারে এসব পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল থাকে।

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
তিনি বলেন, কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর কর হ্রাস এবং ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত লেন্সের ওপর কর বাতিলের ফলে জনগণের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। “আগে যেখানে একজন রোগীর এক লাখ টাকা খরচ হতো, সেখানে অর্ধেক খরচে চিকিৎসা সম্ভব হলে লাভবান হবে সাধারণ মানুষই,” বলেন তিনি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করে, তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে না। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার সড়কটি আমরা চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করব, ইনশাআল্লাহ,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ার পর কক্সবাজার অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালী সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে লবণচাষিরা উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়ার খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই লবণের একটি গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এ জন্য চলতি বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জেলার মানুষ সবসময় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মাতামুহুরী উপজেলা ও থানা উদ্বোধন করেন। পরে জনসভাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত হাজারো নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান।
জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্নাসহ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।