গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ নামের এক যুবদল কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার রাত ৮টার দিকে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের অভিযুক্ত যুবদল নেতা মোকলেছুর রহমান মুকুল ও তার ভাই পলাশের বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। খবর পেয়ে সাঘাটা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আশরাফ খন্দকার নামে এক যুবদল কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তারা বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। মুকুল বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক ছিলেন। আটক আশরাফ খন্দকার একই গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে এবং স্থানীয় যুবদল কর্মী।
সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ তোফাজ্জাল হোসেন জানান, ২২ সদস্যের একটি দল দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
এদিকে, সাইফুল্লাহ বারী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবির। রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভকারীরা ট্রাফিক মোড়ে সমবেত হন। এতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
ইসলামী ছাত্রশিবির গাইবান্ধা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সোমবার সকাল ১১টায় ট্রাফিক মোড় থেকে আবারও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ সংসদ চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই ঘটনায় গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক ও প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের শাস্তির দাবি করেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান মুকুলকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে গাইবান্ধা জেলা যুবদল।
জেলা যুবদলের সভাপতি রাকিব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
এর আগে রোববার বিকেলে বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা মোড়ে সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের সঙ্গে মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মুকুল তার ভাই পলাশ, আশরাফ ও রবিউলকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সালাউদ্দিনও হামলার শিকার হন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত সাইফুল্লাহকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি শিমুলতাইড় গ্রামের জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাবিবুর রহমানের ছেলে। আহত সালাউদ্দিন একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী।