• সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
Headline
গাইবান্ধায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা: অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন, যুবদল কর্মী আটক খুনের রাজনীতি পরিহার না করলে বিএনপিকেও জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে: ছাত্রশিবির সভাপতি দুর্দান্ত প্রতিরোধে বেলজিয়ামকে রুখে দিল ইরান আসুন আমরা সকলে মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি : প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার সৌদি আরবকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়াল স্পেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী বিমান পরিবহন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পর্যটন বিকাশের অন্যতম চালিকাশক্তি: বিমানমন্ত্রী বিসিএস ভাইভা নম্বর কমিয়ে ১০০, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগে নতুন পদক্ষেপ

বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

একুশে সংবাদ ডেস্ক / ৩২ Time View
Update : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

 পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং অনিদ্রাসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্করা এ দূষণের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য শব্দদূষণ আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি বলেন, একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই অনেক সময় তার নিজের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সড়কে অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শব্দদূষণ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পুলিশ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বিভিন্ন এলাকাকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা এবং দেশের সব সিটি করপোরেশনের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকাকেও নীরব এলাকার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলায় ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে ট্রাফিক সার্জেন্ট ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেওয়ায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, রেল, বিমান, যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনলে শব্দদূষণ আরও কমানো সম্ভব।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালা শেষে মন্ত্রী ‘৬৪ জেলার শহরে শব্দের মাত্রা পরিমাপ সংক্রান্ত জরিপ প্রতিবেদন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা