নিজস্ব প্রতিবেদক | একুশে সংবাদ
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও জবাবদিহিমূলক করতে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন আইনের আওতায় পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ধরনের অবহেলা, গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম রোধে এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডগুলো এলোমেলোভাবে (র্যান্ডম স্যাম্পলিং) খাতা সংগ্রহ করে পরীক্ষকদের মূল্যায়নের মান যাচাই করবে। কোনো পরীক্ষক ওভার-মার্কিং, আন্ডার-মার্কিং বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, পরীক্ষকদের ওপর কাজের চাপ কমাতে এবার পরীক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রত্যেক পরীক্ষকের মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত খাতার সংখ্যাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে সরকার।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা বা পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রশ্নফাঁসের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিন সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা (বডি ক্যাম) থাকবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে ২০২৭ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি কার্যকর করা হবে।
কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ঘাটতির কারণেই অনেক শিক্ষার্থী কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এ কারণে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিক্ষাবর্ষ শুরু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মাধ্যমে অতিরিক্ত পাঠদান বা ‘ইন-হাউস কোচিং’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত কোচিং সেন্টারগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার কাজও চলছে।
এইচএসসি পরীক্ষাকে শিক্ষার্থীদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ উল্লেখ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের সর্বস্তরের জনগণ, অভিভাবক, শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।