নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। তাদের মতে, সংসদে সরকারের জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা জরুরি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জোটের নেতারা এসব কথা বলেন।
বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদীয় কার্যক্রম, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, শিল্পকারখানার পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
জোটের নেতারা বলেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক চাপসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্থায়ী কমিটিগুলো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই এসব কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার দাবি জানান তারা।
বৈঠকে মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন জোটের নেতারা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। নেতারা জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মসূচি পালন শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জোটের নেতারা বলেন, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।