চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
টানা অতিবৃষ্টিতে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের, পুকুর ও পোলট্রি খামার প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় মাছচাষিদের দাবি, উপজেলার অধিকাংশ ঘেরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পোলট্রি খামারে পানি ঢুকে শত শত মুরগি মারা গেছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন নদী-খালে জেলেদের জালেও চাষের বড় বড় রুই, কাতলা ও অন্যান্য মাছ ধরা পড়ছে, যা ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতারই প্রমাণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শুধু মাছের ঘের ও পোলট্রি খামারই নয়, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবারের বসতঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিজেদের ঘর ছেড়ে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
পানিবন্দী গৃহবধূ রাশেদা বেগম বলেন, “ঘরের ভেতর হাঁটুসমান পানি। ছোট্ট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। নিজের ঘরে থাকতে পারছি না, অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। রান্নাবান্না করতে পারছি না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব বিপাকে আছি। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা চাই।”
মাছচাষিদের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঘেরের বাঁধ উপচে পানি ঢুকে যায়। এতে লাখ লাখ টাকার মাছ নদী ও খালে চলে যায়। অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। এখন তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় মাছচাষি মো. ইয়াছিন মুন্সি বলেন, “গত ৩০ বছরে এমন বৃষ্টির পানি দেখিনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমার ঘেরের সব মাছ ভেসে গেছে। কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
আরেক মাছচাষি মো. নুর উদ্দিন ফরাজি বলেন, “এখন নদীতে জেলেদের জালে আমাদের পুকুরের রুই-কাতলা উঠছে। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। সারা বছরের পরিশ্রম এক বৃষ্টিতেই শেষ হয়ে গেছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত পোলট্রি খামারি মাইনউদ্দিন দালাল বলেন, “ঋণ করে মুরগির খামার করেছিলাম। টানা বৃষ্টির পানিতে খামারে পানি ঢুকে অনেক মুরগি মারা গেছে। এক বৃষ্টিতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব বুঝতে পারছি না। সরকারের সহযোগিতা চাই।”
ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি, পোলট্রি খামারি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং পানিবন্দী পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।