রেলপথ শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমিউটার ট্রেন সাধারণ মানুষের যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ভৈরব-ময়মনসিংহ রুটে এখনো সেই সুবিধার ঘাটতি স্পষ্ট। ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
ভৈরব, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ, আঠারবাড়ি, গৌরীপুর ও ময়মনসিংহ—এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য কমিউটার ট্রেন দীর্ঘদিনের দাবি। নরসিংদী কমিউটারের মতো নির্ধারিত সময়সূচির একটি ট্রেন চালু হলে প্রতিদিনের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি সড়কপথের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এই রুটে কালিকাপ্রসাদ, ছয়সূতী, হালিমপুর, মুসলী, সোহাগী, আঠারবাড়ী ও ঈশ্বরগঞ্জের মতো স্টেশনগুলো একসময় ছিল স্থানীয় মানুষের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে অনেক স্টেশনে ট্রেনের সংখ্যা ও যাত্রীসেবা কমে যাওয়ায় সেগুলোর গুরুত্বও অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। একটি নিয়মিত কমিউটার ট্রেন চালু হলে এসব স্টেশন আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই রুটে যাতায়াত করেন। তাদের জন্য সময়নিষ্ঠ, নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ের একটি কমিউটার ট্রেন কেবল একটি সুবিধা নয়, বরং একটি বাস্তব প্রয়োজন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় ভৈরব-ময়মনসিংহ রুটে একটি আধুনিক কমিউটার ট্রেন চালু করা হলে তা সরকারের গণমুখী উন্নয়ন উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এটি শুধু যাত্রীসেবার মানই বাড়াবে না, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি সঞ্চার করবে।
এখন সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার। জনগণের দীর্ঘদিনের এই যৌক্তিক দাবিকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই, যাত্রীচাহিদা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। একটি নিয়মিত কমিউটার ট্রেন এই অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও গতিশীল করে তুলতে পারে।