গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় শাহজালাল (৫০) নামে এক কৃষককে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা তার জ্যাঠাতো ভাই গোলাম হোসেনকে দায়ী করলেও পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া (মাঝিপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহজালাল ওই গ্রামের মৃত নিয়ামত উল্লাহর ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি বাঁশের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন শাহজালাল। তার স্ত্রী গোলেদা বেগম মূল ঘরে ঘুমালেও শাহজালাল টিনশেড বারান্দার একটি আলাদা কক্ষে শুয়েছিলেন। রাত প্রায় ২টার দিকে গোঙানির শব্দ শুনে স্ত্রী সেখানে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার গলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটা ছিল এবং পাশে একটি ছুরি পড়ে ছিল। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দিলে ফুলছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ছেলে পাঞ্জু মিয়া অভিযোগ করেন, তার জ্যাঠাতো ভাই গোলাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তার দাবি, গোলাম হোসেন নিজের স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন এবং শাহজালাল এর প্রতিবাদ করতেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে এ নিয়ে বিরোধের পর থেকেই তিনি তাদের পরিবারের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার সময় তার মা অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের বারান্দার কক্ষের পাটাতনের নিচের অংশ খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় শাহজালালকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিবারের অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।