রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানাধীন মডার্ন মোড়ের দক্ষিণে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় এক মাদ্রাসা সুপার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিসংযোগের ছবি তুলতে গেলে এক সংবাদকর্মীর ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম (৪৫) মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ছড়ান বালুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি বর্তমানে রংপুর মহানগরীর ধর্মদাস মিলনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। আবুল কাশেম নগরীর জিয়াতপুকুর মাজার শরীফ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং স্থানীয় মিলনপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে পৌঁছালে রংপুর থেকে ঢাকাগামী আরএম স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার মুহূর্তে তিনি মেয়েকে রাস্তার পাশে সরিয়ে দেওয়ায় শিশুটি প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাস্থলে বাসে আগুন দেওয়ার ছবি ধারণ করতে গেলে আমাদের প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া আরএম স্পেশাল পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মো. মুর্তজা (৫৬) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনা ও অগ্নিসংযোগ—উভয় ঘটনার তদন্ত চলছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।