বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লার মেঘনায় বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ) ও মানিকারচর সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা, মুক্ত আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, সচেতনতামূলক পরিবেশনা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়েছে।
‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরাম (বিএনএফ)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি দিলারা শিরিন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের মহাসচিব ও শিশু মাতৃস্বাস্থ্য ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান। কি-নোট স্পিকার ছিলেন বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মামুন-অর-রশিদ, সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম ভূঁইয়া, মেঘনা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক বলেন, মাতৃদুগ্ধ প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার। জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচক অধ্যাপক ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, মায়ের প্রথম দুধ বা শালদুধই শিশুর প্রথম টিকা। এতে থাকা অ্যান্টিবডি নবজাতককে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। তিনি জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ ও পরবর্তীতে দুই বছর বা তারও বেশি সময় পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কি-নোট স্পিকার অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সুস্থ কিশোরীই আগামীর সুস্থ মা। তাই কিশোরীদের পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, মাতৃদুগ্ধ শুধু শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাদ্যই নয়, এটি শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মানসিক বিকাশ এবং মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শেষে মাতৃদুগ্ধ পান বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, “নিজে জানি, অন্যকে জানাই—মাতৃদুগ্ধ পানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করি।”