মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের সৈয়দপুর ঘাট থেকে সৈয়দপুর খেয়াঘাট পর্যন্ত চলমান সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের পাশের বাঁশের আড়গোড়া ও মাটি ধসে পড়ায় প্রকল্পটির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কটি শুরু থেকেই দুর্বল ভিত্তির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে, যার ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছেন একজন ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে দিয়ে কাজ পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে আধারা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি শুধু কাজটি দেখাশোনা করি। মূল কাজের দায়িত্ব ঠিকাদারের।”
অন্যদিকে ঠিকাদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী বাঁশ ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। এক-দুই বছর পর কিছু সংস্কার লাগতেই পারে।” তাঁর এমন বক্তব্যে প্রকল্পের নকশা, নির্মাণমান ও সরকারি অর্থ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী রাকিব বলেন, “কাজ এখনো শেষ হয়নি। ঠিকাদার যতটুকু কাজ সম্পন্ন করবেন, ততটুকুরই মাপ নিয়ে বিল দেওয়া হবে। যেসব স্থানে সমস্যা দেখা গেছে, সেখানে বালুর বস্তা দিয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী বিল পরিশোধ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই যথাযথ তদারকির অভাব, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং দুর্বল নির্মাণপ্রক্রিয়ার কারণে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা অবিলম্বে প্রকল্পটির কারিগরি তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।