• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
Headline
কালীগঞ্জে নতুন ঘর হস্তান্তর, কর্মসংস্থানে ছাগল উপহার সিরাজগঞ্জে কামারখন্দে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও ওজন যাচাইয়ে ইউএনওদের তদারকির দাবি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা নয়, শান্তি : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী এতিম ৫ কন্যার পাশে দাঁড়ালেন সুস্থ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম  জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত : হামলা হলে বড় পরিসরে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান মস্কোর জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে: পুতিন রোনালদো ইস্যুতে পর্তুগাল কোচ : নিয়ম সবার জন্য সমান

ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ করেছে

আন্তজাতিক ডেস্ক / ৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার তাদের মিশন শেষ করেছে। দেশটির নেতারা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে ইরাক ও সিরিয়ায় জোটের সেনা মোতায়েন করা হয়। ওই গোষ্ঠী তখন বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে গণহত্যা চালায় এবং কয়েক হাজার নারী ও শিশুকে দাসত্বে বাধ্য করে।

বাগদাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

২০১৭ সালে ইরাকে এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হয়। তবে গোষ্ঠীটির অবশিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে জোটের সেনারা সেখানে থেকে যায়।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক মিশনটি ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। একপর্যায়ে তাদের উপস্থিতি স্বায়ত্তশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত হয়ে পড়ে।

ইসলামিক স্টেটকে বোঝাতে ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, ‘এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়, ইরাকের বিজয় এবং আইএসের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট বিজয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার সামনে সেখানে থেকে যাওয়া অথবা সেখান থেকে চলে যাওয়ার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। আর কোনো প্রশ্ন ছাড়াই আমার মনে হয়েছে, আমেরিকার ঘরে ফেরার সময় হয়েছে।’

‘সার্বভৌমত্ব’-
মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট একাই আইএসকে পরাজিত করেনি। কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোসহ ইরাকের শক্তিশালী কয়েকটি গোষ্ঠীও এতে ভূমিকা রাখে। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি এখনও অস্ত্র সমর্পণ করেনি।

ইরাক সরকার মনে করে, জোটের সেনা প্রত্যাহার হলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রভাণ্ডার ধরে রাখার যে অজুহাত ব্যবহার করে আসছে, তা আর থাকবে না।

তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এসব গোষ্ঠীর সমর্থকেরা পতাকায় সাজানো একটি জনসমাগমস্থলে জড়ো হয়ে উদযাপন করেন। সেখানে মডেল ড্রোন দিয়ে সাজানো মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে কাতায়েব হিজবুল্লাহর সামরিক মুখপাত্র জাফর আল-হুসেইনি বলেন, গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্ত্র ‘নিয়ন্ত্রণে আনার’ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে ‘ইরাক সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, এ কারণে অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে তারা ‘কোনো সময়সীমা বা চুক্তির আওতাভুক্ত নয়।’ ইরাকের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী যেকোনো মার্কিন বা ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের সরাসরি জবাব দেওয়ার অধিকার’ তাদের রয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি বলেন, ‘নতুন একটি পর্যায় শুরু হয়েছে। এ পর্যায় ইরাকের সার্বভৌমত্ব, প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি এবং দেশের বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি দ্বারা নির্ধারিত হবে।’

হামলা বেড়েছে-
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলতি বছর ক্ষমতায় আসা জায়েদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র হস্তান্তরে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তার সরকার গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তবে অস্ত্র ‘নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা চলতে থাকায় পরে সেই সময়সীমা প্রত্যাহার করা হয়।

কুর্দি সামরিক কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুর্দিস্তানের আকাশ সুরক্ষার জন্য আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেই।’

তবে তিনি এএফপিকে বলেন, পেশমার্গা বাহিনী যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। জোটের দেওয়া প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও অস্ত্রের কারণে তাদের সক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’ বলেও তিনি জানান।

কুর্দি নেতা মাসুদ বারজানিও বুধবার বলেন, ‘যেকোনো ধরণের হুমকি মোকাবিলায় ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত ভালো সমন্বয় রয়েছে।’

ইরান-সমর্থিত কয়েকটি গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোয় জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকেরা এখন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

গোষ্ঠীগুলো যেসব শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে শুধু বিদেশি সেনা প্রত্যাহার নয়, মার্কিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিও রয়েছে।

কাতায়েব হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘দখলদার বাহিনীর’ প্রত্যাহার ‘পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথে একটি সূচনা।’
তবে গোষ্ঠীটি জায়েদি সরকারকেও হুমকি দিয়েছে।

তারা বলেছে, ‘যে সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করবে না, তাকে সম্ভাব্য সব উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।’
ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েক বছর ধরে গোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় তেহরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে হামলা আরও জোরদার করে। তারা কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category