• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন
Headline
কালীগঞ্জে নতুন ঘর হস্তান্তর, কর্মসংস্থানে ছাগল উপহার সিরাজগঞ্জে কামারখন্দে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও ওজন যাচাইয়ে ইউএনওদের তদারকির দাবি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা নয়, শান্তি : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী এতিম ৫ কন্যার পাশে দাঁড়ালেন সুস্থ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম  জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত : হামলা হলে বড় পরিসরে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান মস্কোর জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে: পুতিন রোনালদো ইস্যুতে পর্তুগাল কোচ : নিয়ম সবার জন্য সমান

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত : হামলা হলে বড় পরিসরে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান

আন্তজাতিক ডেস্ক / ১১ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও কাটেনি। ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পাল্টা প্রস্তাব হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করলে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা অথবা দেশটিকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’ —এই দুই বিকল্পের মধ্যে তাকে একটি বেছে নিতে হবে। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি তার কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তেহরান কখনোই পিছপা হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। তবে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাবে লক্ষ্যবস্তুর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে এবং দেশটি চুক্তি করতে চায়। তবে তিনি এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি প্রকৃত সমঝোতা বলে বিবেচনা করেন।

ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তবে প্রস্তাবটির সব দিক তিনি দেখেননি উল্লেখ করে বলেন, যতটুকু দেখেছেন, তা যথেষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে ইরানের বিষয়ে যে প্রস্তাবে তিনি রাজি হননি, এখন তাতেও সম্মত হবেন না। ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে এবং সামরিক দিক থেকে দেশটির অবস্থান ভালো। গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই ভুয়া খবর বলেও দাবি করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুদ করছে এবং মিত্রদের মধ্যে তা বিতরণ করবে বলে জানান।

ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ইরানের জন্য প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে তেলের দাম আগের মতো কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সাক্ষাৎকারে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর আবার হামলা চালানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তার দেশ কখনোই অনীহা দেখায়নি। ভবিষ্যতেও সংলাপের পথ খোলা থাকবে।

আধা সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও দেশটি তিনবার ইরানে হামলা চালিয়েছে। তা সত্ত্বেও তেহরান আলোচনা থেকে সরে যায়নি। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য খাতের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে এবং সবাই সমস্যা ও ঘাটতি দূর করার চেষ্টা করছেন।

সমুদ্রপথে বিধিনিষেধের মধ্যেও স্থলপথে আমদানি-রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। এ লক্ষ্যে পাকিস্তান, ইরাক, তুর্কমেনিস্তান ও আজারবাইজানের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পেজেশকিয়ান।

ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কী জানিয়েছে, তা নিয়ে তেহরানে পর্যালোচনা চলছে। ইরানের সরকারি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন পক্ষের জবাব প্রেসিডেন্টের কাছে উপস্থাপন করেন। তবে ওই জবাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাব পেয়েছে বলে জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করলে আগের চেয়ে শক্তিশালী ও বিস্তৃত পাল্টা হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এ বিষয়ে অবগত তিনজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এবং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সামরিক নেতৃত্ব সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক অভিযানকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কিছু স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক থেকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফেরার পর থেকেই সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবের ধরন ও সময় নির্ধারণ নিয়ে সামরিক কমান্ডার এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আলোচনা চলছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও দুপক্ষের কেউই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার স্পষ্ট লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে মার্কিন নৌবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান এখনও প্রণালিটিকে ঘিরে নিজের কৌশলগত প্রভাব হারায়নি বলে মনে করেন কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারবিষয়ক অধ্যাপক মেহরান কামরাভা। আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তার ধারণা, ইরান নতুন করে যুদ্ধ শুরু হোক, তা চায় না। এ কারণেই মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তেহরান সরাসরি বাধা দিচ্ছে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে যাওয়া তার প্রতিনিধি দলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও— এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ চললেও ইরানের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাদের প্রতিনিধি দলকে জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ভিসা দিয়েছিল। তবে তাদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ছিল।

জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার এক দিন পর গত সপ্তাহে পেজেশকিয়ান নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে আরাগচি সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়। কিছু সূত্রের দাবি, বুধবার পর্যন্ত নিউইয়র্কে থাকার পরিকল্পনা ছিল তার।

তবে ইরানের জাতিসংঘ মিশন এ খবর অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সোমবারই প্রতিনিধি দল নিউইয়র্ক ছেড়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের জাতিসংঘ মিশন জানায়, কোনো অর্জন না থাকায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিত্তিহীন ও মূল্যহীন খবর প্রচার করছে। এর আগে অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর রুবিও ইরানি প্রতিনিধি দলকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেন।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপক্ষ কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।

এদিকে গত এক সপ্তাহে ফ্রান্সের একটি যুদ্ধজাহাজ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে অন্তত ১০টি জাহাজকে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানী তেহরানের কাছে একটি কথিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছয় সদস্যকে হত্যা করেছে। ওই গোষ্ঠী বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান প্রদেশের রাজধানী থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মানজিলাবাদ এলাকায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালান। একটি বাড়ি থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এলাকাটি পুরোপুরি তল্লাশি এবং কথিত সন্ত্রাসী সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান এর আগে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে দেশটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category