নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনিয়ন পর্যায়ে সার ডিলার নিয়োগে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সারজিস আলমের দাবি, প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে এক বা একাধিক সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব ডিলারের প্রাথমিক তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। তবে ওই তালিকা তৈরিতে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে যে তালিকা পাঠানো হচ্ছে, সেটি উপজেলা বিএনপির নেতারা তৈরি করছেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন—এমন যোগ্য, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের তালিকায় থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতারা নিজেদের নামে, স্ত্রী, ভাই-বোন, বাবা-মায়ের নামে কিংবা বিভিন্নভাবে সার ডিলারশিপ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি সুযোগ থাকলে অনাগত সন্তানের নামেও লাইসেন্স নেওয়ার চেষ্টা করা হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, যোগ্য হলে যে কেউ ডিলারশিপ পেতেই পারেন। কিন্তু বিএনপির পরিচয় বা লবিং ছাড়া কোনো নির্দলীয় ব্যক্তি প্রাথমিক তালিকায় থাকার সুযোগ না পেলে সেটিই বড় সমস্যা। তার দাবি, বিরোধী দলের সমর্থক হলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ডিলারশিপ পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
তার অভিযোগ, একটি সার ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দর উঠেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নথি বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করলে পরবর্তীতে সেই অর্থ তুলে নিতে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে কৃষকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সারজিস আলম অভিযোগ করেন, এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাকর্মী কিংবা তাদের ঘনিষ্ঠদের হাতে লাইসেন্স তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে এসব লাইসেন্সধারীর কেউ কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারেন বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তার ভাষ্য, অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একদিকে জনগণের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বৈশ্বিক সংকটের কারণ দেখিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বের করার দাবি উঠেছে।