নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিআইজি পরিচয় দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, অনুমোদিত ছুটির আগেই বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ এবং অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় টুটুল চক্রবর্তী রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে টুটুল চক্রবর্তীর ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর ছিল। কিন্তু তিনি ১৩ নভেম্বর দুপুরের আগেই কোনো প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করে বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও একাধিকবার ওই বিমানবন্দরে ডিআইজি পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ অধিদপ্তর থেকে চিঠি পাঠানোর পর চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।
অভিযোগ তদন্তের জন্য গত ২ এপ্রিল একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ৭ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে গত ১৬ জুন দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
পরবর্তী সময়ে অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন বরখাস্তের পক্ষে পরামর্শ দেয়।
এরপর প্রস্তাবটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী টুটুল চক্রবর্তীকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় তদন্ত, কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।