নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ের সময় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে মো: রবিউল আলম (৫০) নামে এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীসহ আরও তিন নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বজ্রপাত ঘটে। উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় রবিউল আলম (৫০) নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন।নিহত রবিউল আলম নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের নূরুল হকের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিউল আলম সকালে বাড়ির পাশের খেত থেকে ভুট্টার ডাঁটা কেটে শুকানোর জন্য দিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তিনি ও তার স্ত্রী তা দ্রুত বাড়িতে আনার জন্য খেত যান। ভুট্টার ডাঁটা গোছানোর সময় হঠাৎ তাদের ওপর বজ্রপাত হয়। এতে রবিউল আলমের পরনের পোশাক পুড়ে যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একটু দূরে থাকা তার স্ত্রীও এ সময় আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিউল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্ত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে বালাপাড়া ইউনিয়নের শোভনগঞ্জ বালাপাড়া গ্রামে ঝড়ের সময় ঘরের দরজা-জানলা বন্ধ করে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মোসাঃ সেরিনা বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হন। তিনি ওই গ্রামের মো: জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। বজ্রপাতের প্রচণ্ডতায় তার কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়। তাকে দ্রুত ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
অপরদিকে, পার্শ্ববর্তী এলাকার রকেয়া আক্তার (২০) নামে এক তরুণী ঝড়ের সময় ঘরের ভেতর বসে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকেও ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে তার জ্ঞান ফিরলেও কোনো কিছু বলতে বা শুনতে না পারায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা: হাবিবুল্লাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রবিউল আলমকে হাসপাতালে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে। আহত সেরিনা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এছাড়া শকড (Shocked) হওয়া অন্য তরুণীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।”