ক্রাইম রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার বিল্লাপাড়া কাঁঠের মসজিদ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় মো. সুমন আহম্মদ (৪৬) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার বিল্লাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন আহম্মদ কুমিল্লা সদর উপজেলার প্রথম বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং গৌরাঙ্গ নন্দীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস-সংক্রান্ত সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান মেসার্স জার ট্রেডিং এজেন্সি লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিল্লাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মানিক জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটের বিষয়বস্তু এবং পারিবারিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন আহম্মদের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। একসময় তিনি ভালোবেসে ধর্মান্তরিত হয়ে সিমা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে রিভা (১৩) ও ইভা (৮) নামে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
প্রতিবেশীদের দাবি, দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েনের কারণে কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঈদুল আজহার আগে তার স্ত্রী দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে সুমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া চিরকুটে সুমন নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা লিখে যান। একই সঙ্গে স্ত্রী ও দুই মেয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন। চিরকুটে তিনি লিখেছেন, মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করলেও তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারছিলেন না।
চিরকুটে আরও কয়েকজনের কাছে তার আর্থিক দেনার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। নিজের মালিকানাধীন জমি বিক্রি করে সেই দেনা পরিশোধের অনুরোধও করে গেছেন তিনি। পাশাপাশি দুই মেয়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের ভালো রাখার জন্য মায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক চাপের কারণে সুমন দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন। তবে আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করছে পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহকর্মীরাও এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।