দীর্ঘ ছয় মাস পর শনিবার সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের কঠোর তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খুলে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনার কার্যক্রম শুরু হবে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় ১৩টি সিন্দুক থেকে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গণনা শেষে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এছাড়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া যায়।
সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার ছয় মাস পর তা খোলা হচ্ছে। ফলে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এবার দানের পরিমাণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাগলা মসজিদে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ দান করতে আসেন। ভক্তদের বিশ্বাস, আন্তরিকভাবে এখানে দান করলে মনের আশা পূরণ হয়। রোগমুক্তি, উচ্চশিক্ষা, সন্তান লাভ, ব্যবসায় সফলতাসহ নানা মানত নিয়ে মানুষ নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য সামগ্রীও দান করেন।
ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্দা নদীতে মাদুরে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের স্থানে অবস্থান নেন। তাঁর মৃত্যুর পর সমাধির পাশে নির্মিত হয় এই মসজিদ, যা পরবর্তীতে পাগলা মসজিদ নামে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করে।
১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই মসজিদ। দানবাক্স খোলার দিন প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে অর্থ গণনার কাজ সম্পন্ন হবে।