• শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
Headline
চীন ও মালয়েশিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছয় মাস পর খুলছে পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্স, নতুন রেকর্ডের প্রত্যাশা ডেম্বেলের জোড়া গোলে এগিয়ে ফ্রান্স, দ্রুতই এক গোল শোধ নরওয়ের পেপের জোড়া গোলে ইতিহাস গড়ল আইভরি কোস্ট, বিদায় কুরাসাও জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ, ইরানকে দায়ী করলেন ট্রাম্প ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর মানবতার সেবায় প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত, আসছে আইন সংশোধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হয়ে থাকবে চীন: শি জিনপিং

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হয়ে থাকবে চীন: শি জিনপিং

একুশে সংবাদ ডেস্ক / ২৯ Time View
Update : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে চীন বাংলাদেশের ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হয়ে দীর্ঘমেয়াদে পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

চীন সফরের শেষ দিনে শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। দুই দেশের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব সাময়িক নয়; বরং এটি ভবিষ্যতেও আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে।

হুমায়ুন কবির জানান, চীনের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন-ভাবনার প্রশংসা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গতি আরও ত্বরান্বিত করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তা বাস্তবায়নে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্রিকস (বিআরআইসিএস), সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে বেইজিং। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

হুমায়ুন কবির জানান, চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঝাও লেজি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতি চীনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ, পানি ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীনের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করলে বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, সফরকালে চীনের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো থেকে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রেয়াতি ঋণ ও অনুদান নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন কমে এলেও চীন বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতারই প্রতিফলন।

সফরের সার্বিক মূল্যায়নে হুমায়ুন কবির একে ‘ঐতিহাসিক’‘রূপান্তরমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, বাংলাদেশের উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তাঁর অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তাঁর ভাষায়, ভবিষ্যতে এ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category