নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইন সংশোধনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে তরুণ সমাজকে অবশ্যই মাদকমুক্ত রাখতে হবে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুবসমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল’ উত্থাপন করা হবে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় স্থানে বিশেষ মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাদক শনাক্তে আধুনিক ডগ স্কোয়াড, আসামিদের জন্য হাজতখানা এবং প্রতিটি জেলায় উন্নত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ও জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে মাদক পাচার ও অর্থপাচারের নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এসব অপরাধ দমনে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) পরামর্শে বিদ্যমান আইনি কাঠামো যুগোপযোগী করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতাদের নয়, বরং মাদক ব্যবসার মূল হোতা, অর্থের জোগানদাতা ও গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। মাদকের অর্থে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য সংশোধিত আইনে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৯টি মানি লন্ডারিং মামলা করেছে এবং আরও ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর উত্তরায় সিনথেটিক মাদক কিটামিন তৈরির ল্যাব আবিষ্কার প্রমাণ করে অপরাধীরা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই নতুন ধরনের সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা অপরাধী নন; তারা চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগী। তাদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূল কোনো একক সংস্থা বা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সবাইকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে স্থাপিত মাদকবিরোধী প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও বিশেষ স্মারকের মোড়ক উন্মোচন, মাদকবিরোধী প্রামাণ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’।