হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলে ইরানকে সরাসরি দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘নির্বোধ ও বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী একটি বড় পণ্যবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি ড্রোন জাহাজের ডেকে আঘাত হানলে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়, তবে জাহাজটি যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়। বাকি তিনটি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ট্রাম্প হামলার সুনির্দিষ্ট সময়, জাহাজটির পরিচয় কিংবা ঘটনার বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে। হামলার পর পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে জাতিসংঘের চলমান অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে হামলার ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান এখন পর্যন্ত হামলার দায় স্বীকার করেনি কিংবা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, একটি পণ্যবাহী জাহাজের ডান পাশে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা বস্তুর আঘাতে জাহাজটির ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সংস্থাটি হামলার জন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করেনি।
এরই মধ্যে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী কোনো জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব ইরান নেবে না। একই সঙ্গে এ ধরনের জাহাজের বিমা বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো দায়ভারও বহন করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বার্তায় উল্লেখ করেছে, অনুমোদিত রুটের বাইরে চলাচলের সব ধরনের দায়ভার সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক, অপারেটর ও কমান্ডারের ওপর বর্তাবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের অভিযোগ এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রকাশিত হলেও হামলার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি।