কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রভাব বিস্তার করে মো. আবুল হাসেম (৬০) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের খরিদা ও ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত পৈতৃক জমি জোরপূর্বক টিনসেড বেড়া স্থাপন করে নিজেদের দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বালুধুম গ্রামে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগি অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আবুল হাসেম তারই আপন সহোদর আবুল কাশেম ও ভাতিজা মোস্তফা ড্রাইভার এর নাম উল্লেখপূর্বক চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বালুধুম গ্রামের আব্দুল খালেক স্বীয় স্ত্রী, তিন পুত্র ও চার কন্যা সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করেন। সেই হিসেবে মৃত আব্দুল খালেকের রেখে যাওয়া সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা পাবেন তার যোগ্য উত্তরাধিকারীগণ। অথচ প্রধান অভিযুক্ত আবুল কাশেম ও তার ছেলে মোস্তফা ড্রাইভার দীর্ঘদিন যাবৎ ভিকটিম আবুল হাসেমের পৈতৃক সম্পত্তির অংশটুকু সহ তার আরও কিছু খরিদা সম্পত্তি জোরপূর্বক টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিম আবুল হাসেম এর উপর হামলা করার জন্য উদ্ধত হয়। এ সময় সে ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি সহ ব্যাপক গালমন্দ করে। এ ঘটনার সমাধানের লক্ষ্যে একাধিকবার সামাজিক শালিস বৈঠকে বসলেও অভিযুক্তদের অসহযোগিতার ফলে শেষপর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। এখনো অভিযুক্তদের মাধ্যমে নিজের পরিবারের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগি। চরম নিরাপত্তহীনতা ও উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছেন তিনি।
এ বিষয়ে আবুল হাসেম বলেন, আমার পিতার মৃত্যুর পর আমার পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা আজও বুঝে পাইনি। আমার ছোট ভাই কাশেম ও তার ছেলে মোস্তফা ড্রাইভার জোরপূর্বক আমার সেই জায়গায় টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে দখল করে রেখেছে। আমি সামাজিকভাবে বিষয়টির মীমাংশা করার চেষ্টা করলেও তারা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কথাও শুনে না। মোস্তফা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো এক বড় কর্মকর্তার গাড়ি চালায়। সে আমাকে বিভিন্নভাবে দেখে নেওয়ার হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি যাতে আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা বুঝে পাই, এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
মৃত আব্দুল খালেকের স্ত্রী হাফেজা খাতুন সাংবাদিকদের দেখে এগিয়ে এসে অভিযোগ করে বলেন, আমার বয়স এখন ৮০ বছর। আমার মেঝো ছেলে আবুল কাশেম আমার স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরটি জোরপূর্বক ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। সে আমাকে ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে দিয়েছে। যাতে আমি আমার প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে ও বিধবা মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে বসবাস করে আসছি। সে আমাকে কোনো ভরণপোষণও দেয়না। আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কাশেম এর সাথে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে (০১৮১২-১০৬০৫৬) একাধিকবার কল দিলেও তিনি কলটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।