পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দলের স্কোর ছিল ১-১। তবে ইনজুরি সময়ের পঞ্চম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির গোলে নাটকীয় জয় তুলে নেয় সেলেসাওরা।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে পিছিয়ে থেকে ১৬তমবারের মতো ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ল ব্রাজিল। এতে তারা স্পর্শ করেছে জার্মানির রেকর্ড। বিশ্বকাপে জার্মানিও ১৬বার পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছে।
এছাড়া টানা ১১তমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল ব্রাজিল। ১৯৮৬ সালে শেষ ষোলো পর্ব পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই এই পর্বে খেলছে লাতিন আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে মার্টিনেলির জয়সূচক গোলটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে সবচেয়ে দেরিতে করা ম্যাচজয়ী গোল হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়ে ৮৮ বছর পর প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়েছে তারা। এর আগে ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল। এরপর এমন পরিস্থিতিতে চারটি নকআউট ম্যাচে পরাজিত হয়েছিল দলটি।
চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চারটি গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করেছেন ব্রুনো গিমারেস। এক আসরের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এর চেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ড রয়েছে শুধু কিংবদন্তি পেলের, যিনি ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ছয়টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।
জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো সমতাসূচক গোল করেন। ৩৪ বছর ১২৬ দিন বয়সে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী গোলদাতার রেকর্ড গড়েন। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন বেবেতো, যিনি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ৩৪ বছর ১৩৭ দিন বয়সে গোল করেছিলেন।
ম্যাচে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগে ব্রাজিল ২১০টি সফল পাস সম্পন্ন করে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতিপক্ষের অর্ধে তাদের সর্বোচ্চ সফল পাসের নতুন রেকর্ড।