রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সদস্য হেগেরা চাকমা ওরফে তরুণ হত্যার প্রতিবাদে সোমবার (১১ মে) দীঘিনালা–সাজেক–বাঘাইছড়ি সড়কে আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলে। ইউপিডিএফ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর ডাকা কর্মসূচির কারণে সাজেক পর্যটন সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।
অবরোধের সমর্থনে ভোর থেকেই ইউপিডিএফ কর্মীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, ফলে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সাজেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো সংঘাত বা সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ৯ মে (শনিবার) ভোর পৌনে ৬টার দিকে সাংগঠনিক কাজে বের হন ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা। পরে সাজেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শুকনাছড়া এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ১০–১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত হেগেরা চাকমা সাজেক ইউনিয়নের রেতকাবা এলাকার রঙ্গমনি চাকমার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শুকনাছড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন এবং প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। ইউপিডিএফ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের প্রতিপক্ষ আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলকে দায়ী করেছে।
অবরোধের কারণে সাজেকগামী এবং সাজেক থেকে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পর্যটকবাহী জিপ (চাঁদের গাড়ি)সহ অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। এতে পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।