ঢাকা, নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বকীয়তার প্রতীক। তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই এ দেশের মানুষের জন্য একটি স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যখন চরম সংকটের মধ্যে যুদ্ধের ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল, তখন চট্টগ্রাম থেকে একজন সাধারণ মেজর হিসেবে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী যেভাবে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালিয়েছিল, তা জাতি কখনো ভুলতে পারবে না।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলের শোষণ-বঞ্চনা এবং মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জিয়াউর রহমানকে তিনি একজন অনন্য ও ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি উদার ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল জাতীয় ঐক্য ও সমন্বয়ের রাজনীতি। তিনি বিভাজনের পরিবর্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষকে একত্রিত করে জাতীয় পুনর্মিলনের পথ সুগম করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কারও প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি। বরং তিনি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বাধীন ও বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সেই নীতির ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশকে একটি স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, ডেইলি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএস-এর সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।