চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে যানজট নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার,ভোগান্তিতে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ।দেখার যেন কেউ নেই!
Reporter Name
/ ৬
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
Share
oplus_0
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি,
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম জনপদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট শহর। দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটক, যাত্রী, চালক,শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। যানজটের কারণে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব সাধারণত তিন ঘণ্টার হলেও কেরানীহাটের যানজটের কারণে অনেক সময় পাঁচ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লেগে যায়।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে আটকে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, এমনকি জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কেরানীহাটে যানজটের প্রধান কারণ হলো রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল, ভাসমান দোকান, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ডের অভাব এবং মহাসড়কে ফোর স্ট্রোক সিএনজি, অটোরিকশা,টমটম,, রিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। এছাড়া যাত্রী ওঠানামার জন্য সড়কের ওপর বাস ও মিনিবাস দাঁড়িয়ে থাকাও যানজটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেরানীহাটে প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে দুর্ঘটনা, অন্যদিকে দীর্ঘ যানজট—দুইয়ের চাপে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে যানজট নিরসনে দিনরাত কাজ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেরানীহাট ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইনচার্জ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “আমাদের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে স্থায়ীভাবে যানজট নিরসনের জন্য মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং একটি নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।”
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা, রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল এবং সড়কের সীমিত প্রশস্ততার কারণে সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা যাচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদে সড়ক প্রশস্তকরণ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের মতে, কেরানীহাটে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ, মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ট্রাফিক পুলিশের জনবল বৃদ্ধি এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে কেরানীহাটের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের দুর্ভোগও অনেকটাই লাঘব হবে।