ঢাকা, ৯ জুন:
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন, ইসলামী ব্যাংকে আবারও এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ অনুযায়ী উত্থাপিত এক নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছিল। এ সময়ে গ্রাহকেরা প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা নতুন আমানত রেখেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তাহের অভিযোগ করেন, বর্তমানে ব্যাংকের ভেতরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যা গ্রাহকদের আস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ব্যাংকটি একটি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরছিল। হঠাৎ নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ার বর্তমানে এস আলম গ্রুপ-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রকৃত শেয়ারধারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে রাখা উদ্বেগজনক। ইসলামী ব্যাংকের মূল শক্তি ছিল সততা ও দক্ষতা—এটি বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিতর্কিত গোষ্ঠীর প্রভাব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে অনাস্থা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
গ্রাহকদের উদ্বেগ নিরসন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সংসদে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা।